জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি সভা ও প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল অংশগ্রহণের নির্দেশ

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি সভা ও প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল অংশগ্রহণের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে জ্বালানি তেলের ব্যবহার হ্রাস এবং সরকারি কার্যক্রমের ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন সভা, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সশরীরে সভা ও কর্মসূচি আয়োজন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে পাঠিয়েছে। চিঠিতে সরকারি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সাশ্রয় নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি পর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে আয়োজিত সভা, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে হবে। বিশেষ করে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে জেলা পর্যায় থেকে এবং জেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতে উপজেলা পর্যায় থেকে অংশগ্রহণকারীদের অনলাইন মাধ্যমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এতে করে দীর্ঘ দূরত্ব ভ্রমণজনিত জ্বালানি ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চিঠিতে সশরীরে সভা আয়োজনকে সীমিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একান্ত প্রয়োজন না থাকলে কোনো ধরনের সরাসরি সভা বা কর্মসূচি আয়োজন করা যাবে না। শুধুমাত্র জরুরি ও অপরিহার্য ক্ষেত্রে সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে সভা আয়োজনের অনুমতি থাকবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে ভিডিও কনফারেন্স বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানায়, সরকারের এই নির্দেশনার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সভা ও প্রশিক্ষণ আয়োজনের ধরনে পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কেন্দ্র ও বিভাগীয় পর্যায়ে যাতায়াতের কারণে যে জ্বালানি ব্যয় হয়, তা ভার্চুয়াল অংশগ্রহণের মাধ্যমে কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সময় ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা বাংলাদেশের সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ভার্চুয়াল সভা আয়োজন আগের তুলনায় অনেক বেশি সহজ হয়েছে। তবে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা এখনো একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণে নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগকে প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাস ও জ্বালানি সাশ্রয়ের একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি সরকারি কার্যক্রমে ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও বেগবান করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ