জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য আলাদা আলাদা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমজীবী, কৃষক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে সেগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বুধবার সকালে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে। অধিবেশনের শুরুতে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষকদের সহায়তায় ইতোমধ্যে “কৃষক কার্ড” চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রান্তিক ও নারী প্রধান পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “ফ্যামিলি কার্ড” প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু কৃষকদের সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নেই নয়, বরং গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সরকার আশা করছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতার বিষয়েও সংসদে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মসজিদ-মাদ্রাসার খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের অবদান বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য সম্মানী প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে একটি কাঠামোবদ্ধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রান্তিক ও শ্রমজীবী পরিবারের তরুণরা যাতে ক্রীড়া ক্ষেত্রে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে পারে, সে লক্ষ্যেই “ক্রীড়া কার্ড” চালু করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিল্পোদ্যোক্তা ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের জন্য আলাদা নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, যাতে সমাজের কোনো শ্রেণি পিছিয়ে না থাকে। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অধিবেশনে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং সরকার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। দিনের কার্যক্রম সংসদীয় বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়।


