প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন উদ্যোগে বেকারত্ব হ্রাসের পরিকল্পনা সরকারের

প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন উদ্যোগে বেকারত্ব হ্রাসের পরিকল্পনা সরকারের

 

বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলায় প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রাণিসম্পদ খাতের বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব কমাতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, স্বনির্ভর জনগোষ্ঠী তৈরি এবং নতুন উদ্যোক্তা শ্রেণির বিকাশ ঘটানো। এর মাধ্যমে স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়বে।

প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট অঞ্চলে দেশীয় জাতের দুগ্ধ গাভীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম। একই সঙ্গে উত্তর-মধ্যাঞ্চলের চর ও নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জলবায়ু সহনশীল মুরগির জাত সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় পোলট্রি খামারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ সেবা উন্নয়ন এবং কৃত্রিম প্রজনন সেবার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ভেটেরিনারি সেবার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের বিষয়টিও এই কর্মপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।

মন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি পোলট্রি ও হাঁস খামার সেবা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র জাবরকাটা প্রাণির খামার উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পও বাস্তবায়নের আওতায় আনা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে খামারিদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণিসম্পদ খাত বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে এই খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে।

সরকার আশা করছে, পরিকল্পিতভাবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ