জাতীয় ডেস্ক
গবেষণা ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিময় ও সক্ষমতা উন্নয়ন জোরদারের মাধ্যমে বৈশ্বিক ডিজিটাল বিভাজন কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে উদীয়মান প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী তথ্য-গোপনীয়তা সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশন’-এর ৫৯তম অধিবেশনে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং আন্তর্জাতিক জনসংখ্যা ও উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও গবেষণার ভূমিকা অপরিহার্য হলেও বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল বৈষম্য একটি বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে অবস্থান করছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক সুযোগে বৈষম্য আরও গভীর হচ্ছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, এ বৈষম্য দূর করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাতৃমৃত্যু হার কমানো, টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এসব উদ্যোগে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং রিয়েল-টাইম রোগ নজরদারি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ দেশের স্বাস্থ্যখাতে সেবার পরিধি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এসব উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী আরও বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠীতে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনকে টেকসই উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি মনে করেন, দ্রুত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অসংক্রামক রোগের বিস্তার উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, যা মোকাবিলায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রযুক্তির নিরাপদ, ন্যায্য ও সবার জন্য সহজপ্রাপ্য ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর নীতি ও কাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।


