আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস অভিযোগ করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে জড়িয়েছেন যা মার্কিন জনগণ চায় না। তাঁর দাবি, এই সংঘাতের ফলে মার্কিন সেনারা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। শনিবার ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হওয়ার পর কমলা হ্যারিস রিপাবলিকান প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচনা করে আসছেন। ডেট্রয়েটের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এমন একটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটে লিপ্ত হয়েছে যা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। তাঁর মতে, ট্রাম্প মূলত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। হ্যারিস উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতির দায়ভার সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের বহন করতে হচ্ছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, যথাযথ কূটনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবে এবং ব্যক্তিগত প্ররোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপগুলো মার্কিন জনমতের প্রতিফলন নয়।
অন্যদিকে, কমলা হ্যারিসের এই অভিযোগকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি হ্যারিসের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাধীন সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছিলেন, “কেউ কি সত্যিই মনে করে, কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলে দিতে পারে তাঁর কী করা উচিত?” নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দেন যে, ট্রাম্পের নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শনের অংশ এবং সেখানে বাহ্যিক কোনো প্রভাবের সুযোগ নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতা এবং উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই নেতার এই বাদানুবাদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের মেরুকরণ এর মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর হ্যারিসের এই ধরনের আক্রমণাত্মক অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপকে ডেমোক্র্যাটরা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারী বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কৌশলগত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ রয়েছে। হ্যারিসের এই বক্তব্যটি মূলত মার্কিন ভোটারদের একাংশের সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলো দেশটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা এখন তুঙ্গে। একই সাথে, হ্যারিসের মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাদের এমন প্রকাশ্য সমালোচনা ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।


