জাতীয় সংসদ ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তি বিশেষের সম্মানহানি এবং বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অপপ্রচার ও ‘অনলাইন মব’ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি মনে করেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যে ধরনের অরাজকতা চলছে, তা দমনে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নোয়াখালী-১ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বক্তব্যের শুরুতেই ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “আপনি একজন বিজ্ঞ আইনজীবী এবং ব্যারিস্টার। আমি নিজেও এই পেশার একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য। গত ১৭ বছর আমরা রাজপথে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে একসঙ্গে কাজ করেছি। আজ আপনি এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আপনার আইনি দক্ষতা এবং সংবিধানের ওপর অগাধ অভিজ্ঞতা এই সংসদকে আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর করবে বলে আমার বিশ্বাস।”
সংসদীয় কার্যক্রমের মানোন্নয়নে পেশাদার আইনজীবীদের বিশেষ ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ব্যারিস্টার খোকন বলেন, “সংসদে অনেক সদস্য আছেন যারা আইনশাস্ত্রে ডিগ্রিধারী। তবে যারা নিয়মিত আদালত পাড়ায় প্র্যাকটিস করেন এবং সরাসরি আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত, তাদের যদি কথা বলার জন্য বেশি সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়, তবে জাতি উপকৃত হবে। উচ্চ আদালত এবং মাঠ পর্যায়ের আইনি বাস্তবতার প্রতিফলন সংসদীয় বিতর্কে থাকলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও সমৃদ্ধ হয়।”
বক্তব্যের মূল অংশে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কোনো বাছবিচার ছাড়াই মানুষের সম্মানহানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং ভার্চুয়াল ‘মব জাস্টিস’ বা দলবদ্ধ আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এটি একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং সম্মান রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে দেশে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা দেখছি যে, অনেক ক্ষেত্রে এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো এবং ব্যক্তি বিশেষকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার কাজ চলছে। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় সরকারকে আরও তৎপর হতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সামাজিক মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অপপ্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য বা ভুল তথ্যের জেরে বিভিন্ন সহিংসতা এবং সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের এই দাবি মূলত সেই দীর্ঘদিনের চলমান সংকটের প্রতিধ্বনি। সংসদীয় বিশ্লেষকদের মতে, একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংসদ সদস্যের এই বক্তব্য দেশে অনলাইন নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূচনা করতে পারে।
অধিবেশন চলাকালে তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, সংসদ সদস্যদের গঠনমূলক আলোচনা এবং পরামর্শগুলো সরকার গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করবে, যাতে দেশে একটি নিরাপদ ও সুস্থ ডিজিটাল সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব হয়।


