এনড্রিকের নৈপুণ্যে পিএসজির পরাজয়, লিগ ওয়ানের শিরোপা লড়াই জমজমাট

এনড্রিকের নৈপুণ্যে পিএসজির পরাজয়, লিগ ওয়ানের শিরোপা লড়াই জমজমাট

ক্রীড়া ডেস্ক

ফ্রান্সের ঘরোয়া ফুটবল লিগ ‘লিগ ওয়ান’-এর শিরোপা লড়াইয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। রোববার রাতে নিজেদের মাঠ পার্ক দেস প্রিন্সেসে অলিম্পিক লিঁওর কাছে ২-১ গোলে হেরেছে লুই এনরিকের শিষ্যরা। ব্রাজিলিয়ান তরুণ ফরোয়ার্ড এনড্রিকের জাদুকরী পারফরম্যান্স লিঁওকে এই গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছে, যা লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানের লড়াইকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে আসা ব্রাজিলিয়ান বিস্ময় বালক এনড্রিক ম্যাচের শুরু থেকেই পিএসজি রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন। খেলার সপ্তম মিনিটেই লিঁওকে লিড এনে দেন তিনি। ডি-বক্সের ভেতর দারুণ ক্ষিপ্রতায় পিএসজি গোলরক্ষক মাতভে সাফোনভকে পরাস্ত করেন এই তরুণ তুর্কি। জানুয়ারিতে দলে যোগ দেওয়ার পর এটি লিঁওর জার্সিতে তাঁর সপ্তম গোল। গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের ১৮ মিনিটে আবারও লিঁওর আক্রমণ। এবার গোলদাতার ভূমিকায় না থাকলেও কারিগর ছিলেন এনড্রিক। তাঁর বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়ান আফনসো মোরিরা। প্রথমার্ধের বিশ মিনিটের মধ্যেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে লিঁও কোচ পাওলো ফনসেকা এনড্রিকের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “এনড্রিক ম্যাচে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তবে কেবল আক্রমণ নয়, রক্ষণে সে যেভাবে দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে, সেটি আমাকে বেশি মুগ্ধ করেছে।”

পিএসজির এই পরাজয়ের পেছনে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি এবং মূল একাদশে অনুপস্থিতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে দুটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলেছে লুই এনরিকের দল। সেই ধকল সামলাতে এবং সেমিফাইনালের কথা মাথায় রেখে কোচ এদিন নিয়মিত একাদশের বেশ কিছু তারকাকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন। তবে ব্যাক-আপ খেলোয়াড়রা মাঠে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান কমানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। বিরতির ঠিক আগে লুকাস হার্নান্দেজ ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড গনসালো রামোসের নেওয়া দুর্বল পেনাল্টি শটটি অনায়াসেই রুখে দেন লিঁও গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধেও ভাগ্যের সহায়তা পায়নি প্যারিসের ক্লাবটি। ৫৯ মিনিটে মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে কৌশলগত সংকটে পড়ে স্বাগতিকরা। তাঁর বদলি হিসেবে নামা উসমানে দেম্বেলের একটি শক্তিশালী শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে হতাশা বাড়ে পিএসজি শিবিরে। ম্যাচের অন্তিম সময়ে (ইনজুরি টাইম) খভিচা কভারাৎস্খেলিয়া একটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে ব্যবধান ২-১ করলেও তা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।

এই হারের ফলে লিগ টেবিলের সমীকরণ বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এটি লুই এনরিকের দলের মৌসুমে পঞ্চম পরাজয়। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লঁসের চেয়ে তারা এখন মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছে। যদিও পিএসজির হাতে একটি ম্যাচ বেশি রয়েছে। আগামী সপ্তাহে নঁতের বিপক্ষে স্থগিত হওয়া ম্যাচটি জিততে পারলে ব্যবধান চারে উন্নীত করার সুযোগ থাকবে তাদের।

পিএসজি কোচ লুই এনরিকে পরাজয় মেনে নিয়ে লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তিনি মন্তব্য করেন, “আপনারা একটি জমজমাট লিগ চেয়েছিলেন, এখন পরিস্থিতি ঠিক তেমনই। লঁস ধারাবাহিকভাবে জিতছে এবং লিগের শেষ পর্যন্ত আমাদের কঠিন লড়াই করতে হবে। প্রতি তিন দিন অন্তর ম্যাচ খেলার যে চাপ, সেটি সামলানোর সক্ষমতা আমাদের তৈরি করতে হবে।”

অন্যদিকে, এই জয়ে দীর্ঘ ছয় বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরার স্বপ্ন উজ্জ্বল হলো অলিম্পিক লিঁওর। ২০২০ সালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে সেমিফাইনালের হারের পর থেকে ইউরোপের এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে তারা অনুপস্থিত। এই জয়ের পর ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে লিলের সঙ্গে যৌথভাবে টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে পাওলো ফনসেকার দল। লিগের আগামী ম্যাচগুলো এখন পিএসজির শিরোপা ধরে রাখা এবং লিঁওর ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ফেরার লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ