নির্বাচন কমিশনে জামায়াত জোটের ১৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

নির্বাচন কমিশনে জামায়াত জোটের ১৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোট মনোনীত ১৩ জন প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তারা এসব আবেদনপত্র দাখিল করেন।

প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে বিজয়ী রাজনৈতিক দল বা জোটগুলোর প্রাপ্ত আসন সংখ্যার আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন বণ্টন করা হয়। সেই সমীকরণ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের জোট ১টি সংরক্ষিত আসন লাভ করেছে।

প্রার্থিতা ও আসন বিন্যাস
জামায়াত জোটের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ১৩টি আসনের মধ্যে তাদের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী ৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়া ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) ২টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) একটি করে আসনে প্রার্থী মনোনীত করেছে।

মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, মনিরা শারমিন, মাহমুদা আলম মিতু ও তাসমিয়া প্রধান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাহবুবা হাকিম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন ইসির যুগ্ম সচিব ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান। এসময় প্রার্থীরা হলফনামা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথিপত্র কমিশন সচিবালয়ে জমা দেন। দাখিল অনুষ্ঠানে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও তফসিল
একই দিনে ক্ষমতাসীন বিএনপি জোট মনোনীত ৩৬ জন প্রার্থীও তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। ইতোপূর্বে দলের পক্ষ থেকে মনোনীতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।

ইসি ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ ২১ এপ্রিল। দাখিলকৃত আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করা হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল। আগামী ১২ মে ভোটের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভোটের প্রয়োজন পড়ে না।

সাংবিধানিক ও আইনি প্রেক্ষাপট
সংবিধান ও সংরক্ষিত নারী আসন (নির্বাচন) আইন অনুযায়ী, সাধারণ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের নির্বাচক বা ভোটার হন। তবে দল বা জোটগুলো তাদের প্রাপ্য আসন অনুযায়ী সমসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় এবং একক প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ায়, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিনই তাদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করার আইনি রেওয়াজ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদের পূর্ণাঙ্গ অবয়ব চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। এটি সংসদীয় কার্যক্রমে নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে দলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী ২৯ এপ্রিল প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কমিশন থেকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ