কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব: ৩৯ দিনে শনাক্ত ৬৫১, জনমনে উদ্বেগ

কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব: ৩৯ দিনে শনাক্ত ৬৫১, জনমনে উদ্বেগ

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডেস্ক

কুষ্টিয়া জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পর্যন্ত ৩৯ দিনে জেলায় মোট ৬৫১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৮ জন আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রাদুর্ভাবের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২২ জন রোগী। এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৫৫৪ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৬৫১ জন রোগীর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৩ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্যদিকে, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৮ জন সন্দেহভাজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই মৃত্যুর কারণগুলো সরাসরি হাম কি না, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে জেলায় হামের প্রাদুর্ভাবের প্রকোপ অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। হঠাৎ করে এই অঞ্চলে প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পেছনে আবহাওয়া পরিবর্তন কিংবা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে এক শ্রেণির মানুষের অনীহা বড় কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে গত সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন। দেশব্যাপী পরিচালিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ায় ১১ মে পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৯২৬ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের শরীরে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া কিংবা ত্বকে র‍্যাশ বা লালচে দানার মতো কোনো লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। একই সঙ্গে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা ও ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ