অপরাধ ডেস্ক
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে সোমবার দিবাগত রাতে একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের দুই শিশু সন্তান রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৮), তাদের ১০ বছর বয়সী ছেলে পারভেজ এবং ৩ বছর বয়সী কন্যা সন্তান সাদিয়া আক্তার। পুলিশ মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতেও হাবিবুর রহমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে স্থানীয় এক বৃদ্ধা ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। সন্দেহবশত তিনি ঘরের ভেতর উঁকি দিলে বিছানায় হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ওই বৃদ্ধার চিৎকারে গ্রামবাসী জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সকাল ৮টার দিকে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। গভীর রাতে যখন পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে ছিল, তখন দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই জমি সংক্রান্ত শত্রুতার জের ধরেই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তবে পুলিশ অন্যান্য দিকগুলোও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। তিনি বলেন, “মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে মনে হচ্ছে এটি পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সিআইডির ফরেনসিক টিমকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে শোকের মাতম চলছে নিহতের স্বজনদের মধ্যে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় ইতিপূর্বে এমন বীভৎস ঘটনা কখনো ঘটেনি। এই হত্যাকাণ্ডের পর গ্রামজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটনের আশ্বাস দিয়েছেন।


