জাতীয় ডেস্ক
আগামী বছর থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে আঞ্চলিক পর্যায়ে নববর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই তথ্য জানান। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আয়োজিত এই সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু দেশ যেমন—ভারত, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামের নির্দিষ্ট কিছু অংশে একই সময়ে নববর্ষ পালিত হয়। এই অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক উৎসব আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একে ‘সাংস্কৃতিক কূটনীতি’র একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হবে। এর ফলে দেশগুলোর সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক সফর ও বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
উপদেষ্টা পারসিক নববর্ষ ‘নওরোজ’-এর উদাহরণ টেনে বলেন, বিশ্বের বহু দেশে নওরোজ সম্মিলিতভাবে পালিত হয়। বাংলাদেশও অনুরূপ একটি উদ্যোগ নিতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী এই উৎসবকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, কারণ এটি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে একত্রিত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবোধকে আরও সুসংহত করতে সহায়ক হবে।
এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করেছে। উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা বা অন্য কোনো শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জনমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে বৈশাখী আয়োজন আরও পরিকল্পিতভাবে এবং মাসব্যাপী করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অন্যান্য উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমের তথ্যও তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জানান, দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনসহ বিভিন্ন দপ্তরের অধীনে মোট ৬৪৫টি খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কর্মসূচির মধ্যে ইতিমধ্যে ৫৬১ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট কাজের ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তুতির বিষয়ে জানানো হয়, সরকারের নতুন আমদানি নীতি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এছাড়া আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সঠিক সময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সভা আহ্বান করা হয়েছে যাতে শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় টিকাদান কর্মসূচির আপডেট দিয়ে উপদেষ্টা জানান, ৫ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ২৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৯ জন শিশুকে হামের টিকা প্রদান করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে মোট ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সভায় সরকারের গৃহীত এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনিক গতিশীলতা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


