স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে শতভাগ নির্ভুল তথ্য ডিজিটাল সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ

স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে শতভাগ নির্ভুল তথ্য ডিজিটাল সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিসেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শতভাগ নির্ভুল তথ্য সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

সিনিয়র সচিব বলেন, একসময় ভূমি অফিস ছিল জনভোগান্তি, হয়রানি এবং দীর্ঘসূত্রতার সমার্থক। সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দালালের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করতে হতো, যা সাধারণ নাগরিকদের জন্য ছিল অত্যন্ত দুরূহ। বর্তমান সরকার তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সেই প্রথাগত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান ব্যবস্থার ফলে নাগরিকরা ঘরে বসেই ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাদের আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারছেন, যা প্রশাসনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভূমিসেবার ডিজিটাইজেশন কেবল প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন নয়, বরং এটি সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম। তাই সফটওয়্যার তৈরির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভূমি আইনগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করার তাগিদ দেন তিনি। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা গেলে ভূমি সংক্রান্ত মামলা এবং জটিলতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ভূমি প্রশাসনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনার কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়ায় ই-নামজারি, খতিয়ান এবং মৌজা ম্যাপের ডিজিটাল কপি সংগ্রহের ব্যবস্থা এরই মধ্যে নাগরিকদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় করছে। সিনিয়র সচিবের মতে, প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার উপস্থিতি দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

কর্মশালায় ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ভূমি সেবাকে সম্পূর্ণরূপে কাগজবিহীন এবং জনবান্ধব করার লক্ষ্যে চলমান প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি এই উদ্যোগের ফলে ভূমি মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং খাজনা আদায়ের প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ