ক্রীড়া ডেস্ক
ইংলিশ ফুটবলের প্রেক্ষাপটে একসময়ের ‘রূপকথা’ হিসেবে পরিচিত লিস্টার সিটি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে হাল সিটির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার মাধ্যমে ক্লাবটির ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর তথা ‘লিগ ওয়ানে’ অবনমন নিশ্চিত হয়েছে। মাত্র দশ বছর আগে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া একটি ক্লাবের এমন পতন ফুটবল বিশ্বে বিরল এবং বিস্ময়কর।
ম্যাচটিতে টিকে থাকতে হলে লিস্টার সিটির জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। খেলার ১৮তম মিনিটে লিয়াম মিলারের গোলে হাল সিটি এগিয়ে গেলে শুরুতেই চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে লিস্টার। ৫২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জেমস জাস্টিিন সমতা ফেরানোর মাত্র দুই মিনিট পর লুক থমাস গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। তবে ৬৩ মিনিটে ওলি ম্যাকবার্নির সমতাসূচক গোলটি লিস্টারের সব আশা ধূলিসাৎ করে দেয়। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
এই ড্রয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের তলানি থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিস্টারের জন্য অবনমন এড়ানো গাণিতিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নিরাপদ অঞ্চল থেকে তারা এখন ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে, যেখানে হাতে রয়েছে মাত্র দুটি ম্যাচ। গত চার মৌসুমের মধ্যে এটি ক্লাবটির তৃতীয়বার অবনমনের ঘটনা। ২০২৩ ও ২০২৫ সালে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমিত হওয়ার পর, এবার তারা দ্বিতীয় স্তর (চ্যাম্পিয়নশিপ) থেকেও ছিটকে গেল।
ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের বাইরে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দীর্ঘদিনের ব্যর্থতায় পুঞ্জীভূত ক্ষোভের মুখে পড়েন ফুটবলাররা। এসময় বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলার হামজা চৌধুরী সমর্থকদের সামনে এসে এই বিপর্যয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন।
২০১৬ সালে ক্লডিও রানিয়েরির অধীনে লিস্টার সিটির প্রিমিয়ার লিগ জয় ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক। জেমি ভার্ডি, রিয়াদ মাহরেজ এবং এন’গোলো কান্তের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া সেই দলটি চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলাসহ ২০২১ সালে এফএ কাপ জয় করেছিল। এক দশকের ব্যবধানে সেই সোনালী অতীত এখন ধূসর স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।
দলের প্রধান কোচ গ্যারি রোয়েট এই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, কোনো একক ম্যাচের ফলাফল অবনমনের কারণ নয়, বরং পুরো মৌসুমজুড়েই দলের ধারাবাহিকতাহীন পারফরম্যান্স এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষকে এখন তৃতীয় স্তর থেকে পুনরায় ফেরার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই বিপর্যয় ইংলিশ ফুটবলে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট এবং ধারাবাহিকতা রক্ষার গুরুত্বকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।


