জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশের আইনসভার প্রাণকেন্দ্র জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন গ্যালারির নাম পরিবর্তন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণ করা হয়েছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সংসদ ভবনের গ্যালারিগুলোর নাম ছিল সাধারণ কিংবা ভৌগোলিক অবস্থানভিত্তিক। বর্তমান পরিবর্তনের ফলে প্রতিটি গ্যালারি এখন এক একজন বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতি বহন করছে। বীরশ্রেষ্ঠদের নামে নামাঙ্কিত গ্যালারিগুলো হলো— বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর গ্যালারি, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান গ্যালারি, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল গ্যালারি, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্যালারি, বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন গ্যালারি, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্যালারি এবং বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ গ্যালারি।
ইতিহাস বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদ কেবল আইন প্রণয়নের কেন্দ্র নয়, এটি সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অভ্যন্তরীণ কাঠামো বীরদের নামে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণের একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সংসদ ভবনে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি ও বীরত্বের ইতিহাস আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যালারিগুলোর প্রবেশপথে ইতিমধ্যে নতুন নামফলক স্থাপন করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যবিবরণী এবং নথিপত্রেও এখন থেকে এই নতুন নামগুলোই ব্যবহৃত হবে। নতুন প্রজন্মের সংসদ সদস্য এবং দর্শনার্থীরা যাতে বীরশ্রেষ্ঠদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে পারেন, সেজন্য এই উদ্যোগ বিশেষ সহায়ক হবে।
জাতীয় সংসদে এই পরিবর্তন কেবল নামকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জাতীয় চেতনার প্রসারে একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। বীরশ্রেষ্ঠদের প্রতি এই গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি জনমানসে দেশপ্রেমের সঞ্চার করবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দৃশ্যমান হয়ে উঠবে, যা জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।


