সারাদেশ ডেস্ক
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় নির্মাণকাজের জন্য খনন করার সময় মাটি ধসে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার রাতে নগরীর আগ্রাবাদ বি-ফোর এক্সেস রোড এলাকায় একটি বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ড্রেনেজ প্রকল্পের কাজ চলাকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন দিনাজপুরের বাসিন্দা রাকিব ও তুষার। আহত শ্রমিকরা হলেন সাগর ও এরশাদ। তারা বর্তমানে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন জানান, রাতে ‘চীনা হাইড্রো’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে শ্রমিকরা গভীর খননকাজে নিয়োজিত ছিলেন। কাজ চলাকালে পার্শ্ববর্তী মাটির স্তূপ ধসে পড়লে চার শ্রমিক মাটির নিচে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকিব ও তুষারকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমের আগে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে তড়িঘড়ি করে এই খননকাজ চালানো হচ্ছিল। তবে গভীর রাতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণভাবে মাটি কাটার ফলেই এই প্রাণহানি ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ ধরনের বড় প্রকল্পে শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত দুইজনের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে যথাযথ নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। নির্মাণাধীন এলাকায় মাটি ধস ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পাইলিং বা প্রটেকশন দেওয়াল না থাকায় শ্রমিকের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ট্র্যাজেডি এড়াতে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা তদারকির দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।


