আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পবিত্র হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস এবং মানসম্মত খাবার ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে সৌদি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি (এসএফডিএ)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, লাইসেন্সবিহীন খাদ্য উৎপাদন, মজুত বা অনিয়ম করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সৌদি সরকারের এই কঠোর অবস্থান বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইনি বিধিমালা ও শাস্তির মাত্রা সৌদি আরবের প্রচলিত খাদ্য আইনের অধীনে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মজুত করতে পারবে না। আইনের কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আর্থিক জরিমানা ও কারাদণ্ডের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স এক বছরের জন্য স্থগিত বা সম্পূর্ণ বাতিল করা হতে পারে। এছাড়া দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮০ দিন পর্যন্ত খাদ্য সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে এসএফডিএ।
উৎপাদন ও গুদামজাতকরণে কড়াকড়ি এসএফডিএ স্পষ্ট করেছে যে, দেশের সকল খাদ্য কারখানা ও গুদামগুলোকে নির্ধারিত মানদণ্ড এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অনুমোদিত সীমানার বাইরে বা লাইসেন্সবিহীন অস্থায়ী কোনো স্থানে খাদ্যপণ্য মজুত করা আইনত দণ্ডনীয়। এর আগে কোনো অনিয়মের কারণে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে এসএফডিএ-র আনুষ্ঠানিক অনুমতি ও যাবতীয় শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত তা পুনরায় চালু করা যাবে না। এছাড়া নিম্নমানের বা নির্ধারিত মানদণ্ড উত্তীর্ণ নয় এমন পণ্য কেনাবেচার ওপরও পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয় প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সৌদি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে হজ মৌসুমে মরুভূমির উচ্চ তাপমাত্রা ও বিশাল জনসমাগমের কারণে খাদ্যবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সৌদি নেতৃত্বের বিশেষ নির্দেশনায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে এসএফডিএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, হজযাত্রীদের জন্য নিরাপদ খাবার ও মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করা সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার এবং এই ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।
সম্ভাব্য প্রভাব ও গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কঠোর আইনের ফলে খাদ্য সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যারা অস্থায়ীভাবে অনিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করে থাকে, তারা এই আইনের ফলে নিরুৎসাহিত হবে। এতে করে হজযাত্রীদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং হজের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হবে। সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটিকে একটি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্য সচেতন রাষ্ট্র হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করবে।
মূলত জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং খাদ্য জালিয়াতি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে রিয়াদ। নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে কেউ যাতে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো প্রকার ঝুঁকির সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্যই এমন নজিরবিহীন জরিমানার বিধান কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি খাদ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কঠোর তদারকির আওতায় থাকতে হবে এবং গুণগত মান বজায় রেখেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।


