আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পবিত্র হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে মক্কায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই আইন অনুযায়ী, হজ পালনের অনুমতি নেই এমন কোনো ভিজিট ভিসাধারীকে মক্কায় পরিবহন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত অর্থদণ্ড প্রদান করতে হবে। সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা ও হজ ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত জরুরি সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ মে (১৪ জিলহজ) পর্যন্ত এই কড়াকড়ি বলবৎ থাকবে। পবিত্র নগরী মক্কা এবং হজের জন্য নির্ধারিত অন্যান্য পবিত্র স্থানগুলোতে যারা অননুমোদিত ব্যক্তিদের পৌঁছে দেবেন, তারা এই কঠোর শাস্তির আওতায় আসবেন। আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহনটিও বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যদি উক্ত যানবাহনটি পরিবহনকারী ব্যক্তি বা তার সহযোগীর মালিকানাধীন হয়ে থাকে।
মূলত প্রতিবছর হজের সময় বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম নিয়ন্ত্রণে এবং নিবন্ধিত হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকার ‘হজ পারমিট’ বা বিশেষ অনুমতির ওপর গুরুত্বারোপ করে থাকে। সাধারণ ভিজিট ভিসা বা পর্যটন ভিসায় আগতদের হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণের আইনত সুযোগ নেই। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধভাবে মক্কায় প্রবেশের চেষ্টার ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যা নিরসনেই এবার পরিবহনের ওপর এমন বিশাল অংকের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহনকারী চক্রের কার্যক্রম অনেকাংশে সীমিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া, হজ সংক্রান্ত এই বিধিবিধান লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মক্কা, মদিনা, রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের বাসিন্দারা ৯১১ নম্বরে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে যে, তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং সহযোগিতার জন্য কোনো প্রকার আইনি বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে না।
সৌদি প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান মূলত হজের পবিত্রতা রক্ষা এবং বিশৃঙ্খলা রোধে একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। এর ফলে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ প্রবাসীদেরও বাড়তি সতর্কতার মধ্যে থাকতে হবে। বৈধ অনুমতিপত্র ছাড়া কাউকে পবিত্র স্থানগুলোতে যাতায়াতে সহায়তা করা এখন থেকে বড় ধরনের ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সৌদি আরব এবার একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হজ মৌসুম নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।


