রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধতা পাওয়ার পর নিজেদের সংসদীয় ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তারা এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে যারা নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসছেন, তারা প্রত্যেকেই দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পরীক্ষিত এবং অভিজ্ঞ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামগ্রিক কল্যাণে সংসদে তাদের জোরালো ও যথাযথ ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, নির্বাচিত সদস্যরা দেশের উন্নয়ন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সেলিমা রহমান জানান, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যরা মূলত দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কাজ করেন। সাধারণ আসনের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে কাজের কোনো সমন্বয়হীনতা বা সমস্যা হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, নির্দিষ্ট এলাকায় কাজের পরিধি ও পদ্ধতি দলীয় নীতিমালার আলোকেই নির্ধারিত হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যারা অধিকারবঞ্চিত হয়েছেন এবং চরম দারিদ্র্যের সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বৈষম্য দূরীকরণ এবং নির্যাতিত মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে সংসদীয় কার্যক্রমে গুরুত্ব প্রদান করা হবে।
একই সময়ে বিএনপি জোটের অপর প্রার্থী শিরিন সুলতানা নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, নারী উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা হলেও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। তিনি নারী সমাজের সার্বিক জীবনমান উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় মাদক নির্মূল অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিকে স্বতন্ত্র মোর্চার প্রার্থী সুলতানা জেসমিন দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, কারিগরি শিক্ষা ও কৃষি খাতের উন্নয়ন ছাড়া সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি কেবল নারী নয়, বরং দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর প্রার্থীরা এখন সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের দাবি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ নারী নেতৃত্বের এই উপস্থিতি জাতীয় সংসদের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে।


