রূপগঞ্জে কারখানা শ্রমিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

রূপগঞ্জে কারখানা শ্রমিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

সারাদেশ ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি কারখানার ইলেকট্রিশিয়ানকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) ভোররাতে উপজেলার ডুলুরদিয়া, মাসুমাবাদ ও ইসলামবাগ কালি এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—উপজেলার ইসলামবাগ কালি এলাকার রানা মিয়া (২৫), ইমন (২৫), হাটাব দক্ষিণ বাড়ই পূর্বপাড়ার জসিম (২৪), নরাবো এলাকার আশরাফুল ইসলাম (২৮) এবং নরসিংদী জেলার পলাশ থানার কামারটেক এলাকার ইমন (২৪)।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল সকালে রূপগঞ্জ থানাধীন তারাব পৌরসভার বংশীনগর এলাকার বাসিন্দা নিরন বিশ্বাসের ছেলে শিপন বিশ্বাস নিজ কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি জৈবসার কারখানার সামনের পাকা রাস্তায় ‘সবুজ গ্রুপ’ নামক একটি সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা তার গতিপথ রোধ করে এবং অস্ত্রের মুখে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ভিকটিমের পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় শিপনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পরপরই শিপন বিশ্বাসের বাবা নিরন বিশ্বাস বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অবস্থান শনাক্তের মাধ্যমে গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় অপহৃত শিপন বিশ্বাসকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সেই জবানবন্দি ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এই ৫ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের প্রচেষ্টায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মামলার প্রধান অভিযুক্ত সবুজসহ পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত পাঁচ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যে থাকা গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শিল্পাঞ্চল হওয়ায় রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধী চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে শ্রমিকদের লক্ষ্য করে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশি এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফেরালেও, অপরাধের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ