আইন আদালত ডেস্ক
জামালপুরে এক গৃহবধূকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জনাকীর্ণ আদালতে এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—বুলবুল আহমেদ (৪৫), কালাম মাক্কু (৫০) ও রুকু (৫৫)। রায় ঘোষণার সময় আসামি বুলবুল ও কালাম আদালতে উপস্থিত থাকলেও রুকু বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ১৪ মে দিবাগত রাতে। ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ জামালপুর সদর এলাকায় অবস্থিত হযরত শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অপহরণের পর তাকে একটি নির্জন বাড়িতে আটকে রাখা হয় এবং আসামিরা তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। গৃহবধূ এই অনৈতিক প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরবর্তীতে অভিযুক্তরা তাকে পালাক্রমে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী গৃহবধূ কৌশলে সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে ফেরেন এবং তার স্বামীকে বিস্তারিত অবগত করেন। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ শুনানি এবং তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর বিচারক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ এই শাস্তির আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়কে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তারা জানান, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ের বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ার এই দ্রুত নিষ্পত্তি ও কঠোর রায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে মাজারের মতো জনবহুল এলাকার নিকটবর্তী স্থান থেকে অপহরণের ঘটনাটি জননিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল, যা এই রায়ের মাধ্যমে প্রশমিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


