যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু: ডিএনএ পরীক্ষায় বৃষ্টির পরিচয় শনাক্ত

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু: ডিএনএ পরীক্ষায় বৃষ্টির পরিচয় শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিখোঁজের বেশ কয়েক দিন পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে তার সহপাঠী ও বন্ধু জামিল লিমনের মরদেহ ফ্লোরিডার একটি ব্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং দেশের শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার পুলিশের পক্ষ থেকে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, একটি বাসস্থানের ভেতরে সংগৃহীত আলামতের সঙ্গে বৃষ্টির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া গেছে। তবে তার পূর্ণাঙ্গ মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, এই ঘটনার পেছনে কোনো সহিংসতা বা বিশেষ কোনো দুর্ঘটনা থাকতে পারে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এর আগে স্থানীয় সময় ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে নিখোঁজ অপর শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লিমন ও বৃষ্টি গত কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিখোঁজের পর থেকেই অনুসন্ধানে নামে। জামিল লিমনের মরদেহ পাওয়ার পর থেকেই বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুতে রূপ নিল।

নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি বাংলাদেশের নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের ১৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে তার সহপাঠী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত আলামতগুলো ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে এবং নিখোঁজ হওয়ার আগে তাদের সর্বশেষ অবস্থান ও যোগাযোগের সূত্রগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি সম্ভাব্য অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কোনো মন্তব্য না করলেও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা অত্যন্ত জটিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিদেশের মাটিতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু প্রবাসী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার এবং এই ঘটনার পেছনে দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

সাধারণত বিদেশে উচ্চশিক্ষারত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল আসতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। বৃষ্টির ক্ষেত্রেও ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল আসার পরেই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করল। এখন তার পরিবারের দাবি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বৃষ্টির লাশের খণ্ডিত অংশ পাওয়ায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি কেবল দুটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং এটি সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটকেও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষে দ্রুত একটি প্রতিবেদন প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উন্মোচন করবে। বর্তমানে জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির পরিবারের সদস্যরা শোকার্ত অবস্থায় আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ