যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগে রুমমেট সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহ গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগে রুমমেট সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহতরা হলেন জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত লিমনের মার্কিন রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, পারিবারিক সহিংসতা ও পূর্বশত্রুতার জেরে এই নৃসংশ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

স্থানীয় পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল সকাল থেকে জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। লিমনকে সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার নিজ ছাত্রাবাসে এবং নাহিদাকে ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে ১৭ এপ্রিল এক পারিবারিক বন্ধু পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তের একপর্যায়ে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অন্যদিকে, নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। আজ শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বৃষ্টির পূর্ণাঙ্গ মরদেহ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। বাসার ভেতরে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে ডিএনএ প্রোফাইল মিলিয়ে পুলিশ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিসের (এইচএসসিও) চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানিয়েছেন, অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহ নিহত লিমনের সঙ্গেই অ্যাভালন হাইটস বুলেভার্ডের একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। শুক্রবার সকালে সোয়াট (SWAT) টিমের অভিযানের মুখে ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকেই তিনি আত্মসমর্পণ করেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, অবৈধভাবে আটকে রাখা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং মৃতদেহ গুম করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হিলসবরো কাউন্টি ফ্যালকেনবার্গ রোড কারাগারে বিনা জামিনে আটক রয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ উঠেছিল, যদিও পরবর্তীতে তা খারিজ হয়ে যায়। তিনি সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে, নিহত জামিল লিমন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। লিমনের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা এবং বৃষ্টির মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ