‘জুলাই’কে উপেক্ষা করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়: সংসদ সদস্য আবু সায়েদ হানজালা

‘জুলাই’কে উপেক্ষা করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়: সংসদ সদস্য আবু সায়েদ হানজালা

রাজনৈতিক ডেস্ক

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আবু সায়েদ মোহাম্মদ হানজালা। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের সিংহভাগ মানুষের ম্যান্ডেট ও ‘জুলাই’ বিপ্লবের চেতনাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ‘গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলের প্রতি জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ইতোমধ্যে জুলাই বিপ্লবের চেতনা এবং সম্ভাব্য গণভোটের পক্ষে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, যা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে উপেক্ষা করা সমীচীন হবে না।

আবু সায়েদ মোহাম্মদ হানজালা তার বক্তব্যে জাতীয় সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ ইনসাফ, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশায় তাকে এবং তার সতীর্থদের সংসদে পাঠিয়েছেন। বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকা শিবচরের ভোটাররা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন, সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই তিনি আইনসভায় জনগণের মনের কথা বলার চেষ্টা করছেন। ক্ষমতার মোহ বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে তিনি দাবি করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাদের পূর্বপুরুষদের রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলেও বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে আসার উদ্দেশ্য ভিন্ন। তারা মূলত এ দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবিকে সংসদে এবং সংসদের বাইরে তুলে ধরতে চান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান কর্মসূচি বা আন্দোলন কোনোভাবেই সরকার পতনের জন্য নয়; বরং এটি জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

সংসদ সদস্য হানজালা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের বিভিন্ন দাবি এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গুরুত্ব নিয়ে সংসদের অভ্যন্তরে বারবার কথা বলা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সাড়া পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় সাধারণ মানুষ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ‘জুলাই’-এর চেতনাকে মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সরকারকে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, গণভোটের মাধ্যমে যে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে, তাকে আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করাই এখন সময়ের দাবি। এর ব্যত্যয় ঘটলে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা সংকটে পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সমাবেশ শেষে উপস্থিত বিপুল জনসমর্থনের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেবল সংসদের আলোচনার মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনে দাবি আদায়ে রাজপথের আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সাধারণ মানুষকেও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি রাজপথের আন্দোলনে এ ধরনের সক্রিয় অংশগ্রহণ আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ