রাজনৈতিক ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন লাভের যে চেষ্টা বিএনপি করছে, তাতে দলটির রাজনৈতিক সামর্থ্য বা ‘জ্বালানি’ ফুরিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, সংস্কার প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিষয়ে নিজস্ব বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলাম সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট বিদ্যমান থাকলেও সরকারের মন্ত্রীরা সংসদে প্রকৃত চিত্র আড়াল করছেন। তাঁর মতে, সরকার বাস্তব সমস্যাগুলো অস্বীকার করে এক ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা স্বীকৃতি দৃশ্যমান নয়।
সরকারের মেয়াদ ও জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় এই হুইপ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে কোনো সরকার এতটা জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকেই সেই পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সরকারের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং সংস্কার কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ একটি নতুন ও বৈষম্যহীন স্বৈরতন্ত্রমুক্ত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে রাষ্ট্র সংস্কারের যে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, বিএনপি সেখানে শুরু থেকেই অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, সংস্কারের প্রতিটি পদক্ষেপে বিএনপি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং ঐকমত্য কমিশনে যোগ দিলেও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রদান করে কার্যক্রমকে দীর্ঘায়িত করেছে।
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি গণভোটে রাজি হলেও এখন তারা সেই গণরায় বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে। তাঁর মতে, যে দলটির জন্মগত ইতিহাস গণভোটের সঙ্গে জড়িত, তাদের পক্ষ থেকে বর্তমান সময়ের গণভোটকে অস্বীকার করা মূলত নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত সম্মান নিশ্চিত করতে হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।
বিএনপির বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আওয়ামী লীগের আদলে দলীয়করণ করার যে প্রক্রিয়া বিএনপি শুরু করেছে, তা নব্য স্বৈরাচারের উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি যদি পূর্ববর্তী স্বৈরশাসকের পথ অনুসরণ করে দেশ পরিচালনা করতে চায়, তবে দেশের ছাত্র-জনতা এবং তরুণ সমাজ পুনরায় রাজপথে নেমে তাদের প্রতিহত করবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ঘোষণা করেন, জনগণের দাবি আদায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি সংসদ এবং রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় থাকবে। দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে সরকারকে গণমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।


