সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

কোনো সংস্কৃতি বা সভ্যতা একে অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বা নিকৃষ্ট নয়, বরং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভুল বোঝাবুঝি ও সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার মানসিকতা বিশ্বজুড়ে ফাটল সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে পারস্পরিক মেলবন্ধন ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমেই মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগারে আয়োজিত এক বিশেষ বৈশ্বিক সেমিনার ও প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ ঘোষিত প্রথম ‘আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস’ উপলক্ষ্যে ঢাকাস্থ গণচীন দূতাবাস এবং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চীন অ্যালামনাইয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘ডায়ালগ অব কাইন্ডেড স্পিরিট: চায়না-বাংলাদেশ স্কলার্স ডায়ালগ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্তমান বিশ্বের জটিল সন্ধিক্ষণের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস বিশ্ববাসীকে এই স্পষ্ট বার্তাই দেয় যে, সভ্যতার মাঝে কোনো সংঘাত নেই। বাংলাদেশ সর্বদা অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুমাত্রিক ও জাতীয়তাবাদী দর্শনের আলোকে সমৃদ্ধ উন্নয়ন সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে। এই লক্ষ্যে গণচীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং প্রস্তাবিত ‘গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ’ (জিসিআই)-কে বাংলাদেশ অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। এই উদ্যোগটি সভ্যতার বৈচিত্র্য রক্ষা এবং জনগণের সাথে জনগণের মেলবন্ধনকে অগ্রাধিকার দেয়, যা বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়ন রূপরেখার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশ সংঘাতের বদলে সহযোগিতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার চেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিকে বেছে নেয়।

বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গভীরতা স্মরণ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ কোনো নতুন পরিচিত বন্ধু নয়। নদী, পাহাড় এবং হাজার বছরের অংশীদারিত্বের ইতিহাস এই দুই দেশকে যুক্ত করে রেখেছে। প্রাচীন সিল্ক রোড থেকে শুরু করে মহৎ বৌদ্ধ ভিক্ষু অতীশ দীপঙ্করের আধ্যাত্মিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান দুই দেশের গভীর সম্পর্কের চিরন্তন স্মারক হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক এক অনন্য ‘ব্যাপক কৌশলগত সমবায় অংশীদারত্বে’ রূপ নিয়েছে, যা আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আরও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত গণচীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সেমিনারে উপস্থিত সুধীসমাজ, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী মুক্তচিন্তার প্রসার ও দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের সংলাপ দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান মৈত্রীপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

আলোচনা সভা শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অতিথিদের নিয়ে চীন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মেলবন্ধন, প্রত্নতত্ত্ব, ঐতিহ্য এবং চিত্রকর্মের ওপর আয়োজিত এক বিশেষ প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে তাঁরা ঐতিহ্যবাহী চীনা ক্যালিগ্রাফি এবং বইয়ের অনন্য সংগ্রহ প্রত্যক্ষ করেন। এই প্রদর্শনী দুই দেশের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

উক্ত সেমিনার ও প্রদর্শনীতে ঢাকার চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ