লাহোরে ৫০ একর জমিতে আধুনিক ফিল্ম সিটি নির্মাণের ঘোষণা: ২০০ কোটি রুপির বিশেষ বরাদ্দ

লাহোরে ৫০ একর জমিতে আধুনিক ফিল্ম সিটি নির্মাণের ঘোষণা: ২০০ কোটি রুপির বিশেষ বরাদ্দ

বিনোদন ডেস্ক

পাঞ্জাবের চলচ্চিত্র শিল্পের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং একে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ও আর্থিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রাদেশিক সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ লাহোরে ৫০ একর জায়গাজুড়ে একটি অত্যাধুনিক ‘ফিল্ম সিটি’ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। এই মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণের পথ সুগম করতে ২০০ কোটি রুপির একটি বিশেষ তহবিলও গঠন করা হয়েছে।

রোববার এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় দুই বছর ধরে চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক ও অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর এই প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ফিল্ম সিটিতে আন্তর্জাতিক মানের স্টুডিও, সাউন্ড স্টেজ এবং উন্নত প্রযুক্তির ভিএফএক্স (VFX) ও পোস্ট-প্রোডাকশন ল্যাবরেটরি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের জন্য একটি সমন্বিত বাণিজ্য কেন্দ্র এবং বড় পরিসরের অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ কনভেনশন হল নির্মাণ করা হবে।

ফিল্ম সিটি প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। এ উদ্দেশ্যে সেখানে একটি চলচ্চিত্র ও সংগীত বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও কলাকুশলীরা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। শুটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এখানে একাধিক ব্যাকলট, কৃত্রিম কেন্দ্রীয় লেক এবং বৈচিত্র্যময় সেট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া শুটিং চলাকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও প্রকল্প নকশায় রাখা হয়েছে।

এই উদ্যোগের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পাঞ্জাব ফিল্ম সিটি নির্মাণের ফলে বিদেশি প্রোডাকশন সার্ভিসের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। এটি হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিভাদের বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে। আমাদের লক্ষ্য পাঞ্জাবকে প্রযুক্তি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করা।”

প্রকল্পের আর্থিক রূপরেখা সম্পর্কে পাঞ্জাবের তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আজমা বুখারি জানান, চলচ্চিত্র শিল্পের পুনরুজ্জীবনে সরকার ২০০ কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে। এই তহবিলের আওতায় প্রথম ধাপে ৩২ জন নির্বাচিত নির্মাতাকে তাদের চলচ্চিত্রের জন্য ৩ কোটি রুপি করে অনুদান প্রদান করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়াটি দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—চিত্রনাট্য জমা দেওয়ার পর প্রথম অংশ এবং নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট অংশ প্রদান করা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, মেধাবী তরুণদের উৎসাহিত করতে পাঁচজন উদীয়মান নির্মাতার জন্য আলাদা বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামী জুন মাস থেকে প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সিনেমা হলগুলোকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সিনেমা হলগুলোর পরিচালন ব্যয় কমবে এবং হল মালিকরা আর্থিক সাশ্রয় করতে পারবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলে চলচ্চিত্র নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং এটি দক্ষিণ এশীয় বিনোদন শিল্পে একটি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। সরকারের এই বিশাল বিনিয়োগ মূলত তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল পেশায় উদ্বুদ্ধ করা এবং দেশের সাংস্কৃতিক ভাবমূর্তি বিশ্বদরবারে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ