ধর্ম ও প্রবাস ডেস্ক
সৌদি আরবে চলমান ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমে এ পর্যন্ত ৩৮ হাজার ২০৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী দেশটিতে পৌঁছেছেন। মোট ৯৫টি ফ্লাইটের মাধ্যমে তারা জেদ্দা ও মদিনার বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এদিকে, হজ পালন করতে গিয়ে নতুন করে আরও একজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে সৌদি আরবে মোট সাতজন হজযাত্রী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্পডেস্ক থেকে প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, সৌদি আরবে পৌঁছানো হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৩ হাজার ৬৯৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫০৮ জন। পরিবহন ব্যবস্থায় অংশ নিচ্ছে তিনটি এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৪২টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইন্স ৩৫টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
বুলেটিনে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী হজযাত্রীর নাম মো. শামসুল আলম (৬৩)। তার স্থায়ী নিবাস রংপুরের কোতোয়ালি এলাকায়। গত মঙ্গলবার মদিনায় অবস্থানকালীন তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ছিলেন। চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মধ্যে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে মৃত অন্য ছয়জনই ছিলেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত সৌদি আরবে মারা যাওয়া সাতজন হজযাত্রীর সবাই পুরুষ। তাদের মধ্যে পাঁচজন মক্কায় এবং দুইজন মদিনায় মারা গেছেন। গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই মৃত্যু তালিকায় অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন—জামালপুরের মো. আব্দুল হাই (৬১), শেরপুরের মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (৫৮), দিনাজপুরের মো. খলিলুর রহমান (৬৪), ময়মনসিংহের মো. সেরাজুল হক (৬৬), টাঙ্গাইলের মো. আবুল কাশেম (৭০) এবং জয়পুরহাটের মো. নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫)।
হজ ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি অনুযায়ী, গত ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত হজযাত্রীদের বহনকারী ফ্লাইটগুলো নিয়মিত সৌদি আরবে যাতায়াত করবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে বাংলাদেশি হাজিদের নিয়ে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সৌদি আরবের আবহাওয়া এবং শারীরিক ধকল বিবেচনায় বয়োজ্যেষ্ঠ হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ মিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মক্কা ও মদিনায় স্থাপিত মেডিকেল সেন্টারে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার সময় বাড়ার সাথে সাথে সৌদি আরবে বাংলাদেশি মিশনে প্রশাসনিক ও চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত জনবলও বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে হজযাত্রীরা দ্রুত সেবা পেতে পারেন।


