আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা নিয়ে দেশটির জনগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিভাজন দেখা গেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ এবং ইপসোসের যৌথভাবে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ ট্রাম্পকে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে উপযুক্ত মনে করেন না।
জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের ৫৯ শতাংশ মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মানসিক সক্ষমতা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য যথেষ্ট নয়। বিপরীতে ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা তাকে এ ক্ষেত্রে সক্ষম বলে মত দিয়েছেন। জরিপের এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তার নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিতর্কেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শারীরিক সক্ষমতার প্রশ্নেও প্রায় একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৫ শতাংশ মনে করেন ট্রাম্প শারীরিকভাবে সুস্থ নন, যেখানে ৪৪ শতাংশ এই মতের সঙ্গে একমত নন। ফলে মানসিক ও শারীরিক—উভয় দিক থেকেই তার সক্ষমতা নিয়ে জনমতের মধ্যে দ্বিধা স্পষ্ট হয়েছে।
জরিপে আরও দেখা যায়, ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন না। এছাড়া ৬৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তিনি যথেষ্ট পরিমাণে বিবেচনা বা পর্যালোচনা করেন না। এই তথ্যগুলো তার নেতৃত্বের ধরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে জনগণের আস্থার ঘাটতিকে নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংকটগুলো জনমতের এই পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে নীতিনির্ধারণ ও নেতৃত্ব সম্পর্কে অতিরিক্ত সতর্কতা তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও জরিপে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার প্রভাব আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি, তবে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ জনমতের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কেও জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকেরও বেশি মনে করেন, আগামী এক বছরে জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। মাত্র ২১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। ফলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা বেশি রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক নেতাদের জনপ্রিয়তা ও সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জনমত জরিপ পরিচালিত হয়ে থাকে, যা সাধারণত আসন্ন নির্বাচন, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জনমতের পরিবর্তন বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। সাম্প্রতিক এই জরিপও একই ধারার অংশ হিসেবে বিশ্লেষিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের জরিপের ফলাফল সরাসরি রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত না করলেও এটি জনগণের মনোভাব এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থার পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। ফলে আগামী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে জনমতের এই প্রবণতা কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।


