আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সোমবার (৪ মে) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক কার্যক্রম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ, সক্রিয় ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু জয়-পরাজয় নয়, বরং অংশগ্রহণ ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলাই ক্রীড়া কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক পরিশ্রম ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়া কমিয়ে দিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হবে।

ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি ক্রীড়া কার্ড প্রদান করেছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে তাদের উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্রীড়া অবকাঠামো শক্তিশালী করবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়কে ক্রীড়া উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। মোট ৩০টি ইভেন্টে অ্যাথলেটিক্স ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে অংশ নেন।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা হলে দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক খেলোয়াড় তৈরির পথ সুগম হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দলগত কাজের মানসিকতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ