সংরক্ষিত নারী আসনে নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশ, এমপি হিসেবে ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

সংরক্ষিত নারী আসনে নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশ, এমপি হিসেবে ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (৫ মে) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়, যার মাধ্যমে তার সংসদ সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হলো।

নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান গণমাধ্যমকে জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া শেষে নুসরাত তাবাসসুমকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী তার নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত ঘোষণার পর গেজেট প্রকাশ করা হয়।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বণ্টিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলো মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। কমিশন সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করে থাকে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নুসরাত তাবাসসুমের নাম চূড়ান্ত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

ঘটনার পেছনের প্রক্রিয়ায় জানা যায়, একই আসনের আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় সরকারি চাকরি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা বাতিল করা হয়। এর ফলে ওই আসনে নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়সীমার ১৯ মিনিট পর নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়নপত্র জমা দেন, যা শুরুতে গ্রহণ করা হয়নি বলে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর জানায়।

এ অবস্থায় নুসরাত তাবাসসুম বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশনার পর কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে পুনরায় যাচাই-বাছাই শেষে ২ মে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।

অন্যদিকে মনিরা শারমিন তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতে রিট করেন এবং নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। তবে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিট আবেদনটির শুনানি গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে তা অন্য বেঞ্চে স্থানান্তর করে। সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও শেষ পর্যন্ত কমিশন গেজেট প্রকাশ করে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট ও দলের মধ্যে আসন নির্ধারণ করা হয়। এ ব্যবস্থায় বিএনপি জোটকে ৩৬টি, একটি স্বতন্ত্র জোটকে একটি এবং জামায়াত জোটকে ১৩টি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই অধিকাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হন এবং ইতোমধ্যে তাদের অনেকেই শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন।

বর্তমানে নুসরাত তাবাসসুমকে নিয়ে আলোচিত আসনটি চূড়ান্তভাবে পূরণ হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলে ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা জানান, সর্বশেষ ধাপ হিসেবে বাকি থাকা একজন প্রার্থীর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।

সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন ঘিরে উদ্ভূত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের পর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন মনে করছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ