খুলনা মহানগরীর নিম্ন আয়ের এলাকায় ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সম্প্রসারণ উদ্যোগ

খুলনা মহানগরীর নিম্ন আয়ের এলাকায় ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সম্প্রসারণ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা মহানগরীর বাস্তুহারা, রূপসা চর, গ্রিনল্যান্ড ও মন্টুর কলোনীতে জলবায়ু সহনশীল স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শহরব্যাপী অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে বাস্তুহারায় দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে খুলনা ওয়াসা সরবরাহকৃত পানি পরিশোধন করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। গ্রাহকরা নিজস্ব পাত্র নিয়ে প্রিপেইড কার্ড অথবা নির্ধারিত অপারেটরের মাধ্যমে প্রতি লিটার ৬০ পয়সা মূল্যে পানি সংগ্রহ করতে পারছেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্প এলাকায় আরও ১০টি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্লান্ট পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কেসিসির সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া একটি শিশু কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার বিষয়টিও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রকল্প এলাকার অনেক স্থানে যৌথ টয়লেট অকার্যকর বা অব্যবহৃত থাকায় এবং সচেতনতার ঘাটতির কারণে প্রায় ৪৭ শতাংশ মানববর্জ্য ড্রেন বা জলাশয়ে নিষ্কাশিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। জায়গার সংকটের কারণে নিম্ন আয়ের বসতিগুলোতে স্যানিটেশন পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রকল্পের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে জলবায়ু-সহনশীল স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বর্জ্য পরিশোধন নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে পরিবেশ দূষণ হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, প্রকল্পের ইনসেপশন সভা সোমবার খুলনা নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, মহানগরীতে ওয়াসা পানি সরবরাহ করলেও এখনও সব এলাকায় সেবা পৌঁছায়নি। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের বসতিতে বিশুদ্ধ পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি ময়ূর নদী কেন্দ্রিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নদীটি রক্ষা করা না গেলে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তিনি নদীকে আধুনিকায়ন করে পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকায় রূপান্তরের জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারি ইগনে কাসেন এবং ইউনিসেফের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর পিটার মাস। এছাড়া খুলনা ওয়াসা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

সভায় বক্তারা প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন, সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই নগর উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নগরীর নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ