অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, অতীতে টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না এবং তার পেছনের কারণ কী—তা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের কার্যক্রম মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক সংশোধন আনা হবে, যাতে শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোনো নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন না বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টিকাদান কার্যক্রমে সম্ভাব্য ঘাটতির পেছনে প্রশাসনিক বা অন্যান্য বাস্তব কারণ থাকতে পারে, যা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি চলমান টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কেও তথ্য দেন। তিনি জানান, সরকারের বর্তমান উদ্যোগের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ। অবশিষ্ট শিশুদেরও দ্রুত টিকার আওতায় আনার জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অপরিহার্য। ফলে অতীতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে তা দ্রুত শনাক্ত করে সমাধান করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো যায়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আঞ্চলিক রাজনীতি সম্পর্কেও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো পর্যবেক্ষণ নেই। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত।
তিনি আরও বলেন, ভারতের যেকোনো অঞ্চলের নির্বাচনে জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হবেন, তাদের সঙ্গেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্পর্ক বজায় রাখবে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রাষ্ট্রভিত্তিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয় এবং কোনো রাজ্যভিত্তিক নির্বাচনের ফলাফল সেই সম্পর্ককে প্রভাবিত করে না।
সরকারের এই অবস্থান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। একই সঙ্গে, স্বাস্থ্য খাতের চলমান কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে সরকার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ