বিদেশ ভ্রমণে অতিরিক্ত সচিবদের জন্য ইকোনমি ক্লাস বাধ্যতামূলক

বিদেশ ভ্রমণে অতিরিক্ত সচিবদের জন্য ইকোনমি ক্লাস বাধ্যতামূলক

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরকারি কাজে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে বিজনেস বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণির পরিবর্তে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতে হবে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১ থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্ব-শাসিত, সংবিধিবদ্ধ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অতিরিক্ত সচিব বা সমপর্যায়ের সকল কর্মকর্তা এই বিধানের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপ কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ বাজেট ব্যবস্থাপনার চাপ বিবেচনায় এনে ব্যয় সংযমে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার, যার অংশ হিসেবে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এর আগে, ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর অর্থ বিভাগের জারি করা এক অফিস স্মারকের অনুচ্ছেদ ২১(খ)-এ সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের সময় বৈদেশিক মুদ্রায় দৈনিক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য উন্নত শ্রেণিতে ভ্রমণের সুযোগের বিধান ছিল। নতুন আদেশে সেই বিধানের পরিবর্তন এনে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা পূর্বের নীতিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল তারিখের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের উপসচিব র. হ. ম. আলাওল কবির স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্দেশনা কার্যকরের মাধ্যমে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আসবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। একই সঙ্গে অন্যান্য খাতে ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগও জোরদার হতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে বাজেট ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ