হলিউড অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি ও পরিচালক জাস্টিন বালডোনির আইনি বিবাদ মিটলেও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে ‘বেটি বুজ’

হলিউড অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি ও পরিচালক জাস্টিন বালডোনির আইনি বিবাদ মিটলেও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে ‘বেটি বুজ’

বিনোদন ডেস্ক

হলিউড অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি এবং পরিচালক জাস্টিন বালডোনির মধ্যে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটেছে। তবে এই বিবাদের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে লাইভলির ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর। নেতিবাচক প্রচারণার কারণে তার পানীয় ব্র্যান্ড ‘বেটি বুজ’ উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও ইমেজ সংকটের সম্মুখীন হয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ তিক্ততার পর গত ৪ মে উভয় পক্ষ একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে তারা কাজের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং লাইভলির উত্থাপিত উদ্বেগগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত ছিল বলে একমত হয়েছেন। মূলত লাইভলি পরিচালক বালডোনির বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি ও অসদাচরণের অভিযোগ এনেছিলেন। অন্যদিকে বালডোনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা মামলা করলেও তা শেষ পর্যন্ত টেকেনি। আইনি এই লড়াইয়ের অবসান হলেও অভিনেত্রীর ব্র্যান্ড ইমেজে এর নেতিবাচক ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অভ্যন্তরীণ নথিপত্র এবং ফাঁস হওয়া ই-মেইল থেকে জানা যায়, ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমাটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কারণে বড় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো লাইভলির সঙ্গে কাজ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সুপারমার্কেট চেইন ‘ক্রোগার’ অভিনেত্রীর নেতিবাচক ইমেজের কারণে তাদের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটি ব্র্যান্ডটির বিক্রয় পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া ‘প্রিন্সেস ক্রুজ’-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও এই বিতর্কের কারণে তাদের ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই বিবাদের বিরূপ প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিতর্কের সময় ‘বেটি বুজ’-এর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি থমকে যায়। ইতিবাচক মন্তব্যের পরিবর্তে সাধারণ মানুষ নেতিবাচক ও সমালোচনামূলক মন্তব্য করতে শুরু করে। জনমতের এই ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে ব্র্যান্ডটি একপর্যায়ে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে গ্রহণ করতে দ্বিধাবোধ করে, যার প্রতিফলন লাইভলির ক্ষেত্রে ঘটেছে।

আইনি এই লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট হিসেবে কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগগুলো সামনে এসেছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে, তবে করপোরেট জগতে একজন তারকার ব্যক্তিগত ও পেশাগত আচরণের প্রভাব কতটুকু গভীর হতে পারে, ব্লেক লাইভলির ব্যবসায়িক ক্ষতি তারই প্রমাণ। তবে চূড়ান্ত বিবৃতিতে উভয় পক্ষই পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাদের অভিনীত সিনেমার ইতিবাচক ভূমিকার কথা স্মরণ করে গর্ব প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, আইনি জটিলতা কাটলেও লাইভলির ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটির পূর্বের সুনাম ফিরে পেতে দীর্ঘ সময় ও কার্যকর জনসংযোগ কৌশলের প্রয়োজন হবে।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ