ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ব্রাজিলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে নিজের নাম দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘদিনের গুরুতর ইনজুরি এবং কঠিন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কাটিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই আবেগঘন মুহূর্তের চিত্র ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এই ফুটবল তারকা।
ব্রাজিল দল ঘোষণার সময় নেইমার তার সঙ্গী ব্রুনা বিয়ানকার্দি এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। টেলিভিশনের পর্দায় নিজের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে তাকে অশ্রুসজল চোখে বন্ধুদের আলিঙ্গন করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে একটি বার্তায় নেইমার এই দিনটিকে তার জীবনের অন্যতম আবেগঘন এবং সুখের দিন হিসেবে উল্লেখ করে সৃষ্টিকর্তা ও দেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে উরুগুয়ের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন সময়ে গুরুতর ‘এসিএল’ (অ্যান্টেরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) ইনজুরিতে পড়েন নেইমার। এরপর অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। এই দীর্ঘ সময়ে মাঠের বাইরে থাকায় তার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত শঙ্কা কাটিয়ে পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়ায় কোচ তাকে অভিজ্ঞতার মূল্যায়নে দলে রেখেছেন।
এটি হতে যাচ্ছে নেইমার জুনিয়রের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। এর আগে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা ছিলেন তিনি। তবে পূর্ববর্তী আসরগুলোতে চোট এবং দলের সেমিফাইনাল কিংবা কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের কারণে ট্রফি জয়ের অধরা স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। এবারের আসরটি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে বলে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, যা এই আসরে তার পারফরম্যান্সের ওপর বাড়তি গুরুত্ব তৈরি করছে।
এই বিশ্বকাপের মঞ্চে নেইমারের সামনে রয়েছে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অনন্য সুযোগ। বর্তমানে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় পেলের রেকর্ড স্পর্শ করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন তিনি। আর মাত্র কয়েকটি গোল করলেই তিনি সেলেসাওদের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা গোলদাতার একক গৌরব অর্জন করবেন।
নেইমারের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্তি ব্রাজিল দলের আক্রমণভাগের শক্তি এবং মানসিক আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গঠিত দলে তার মতো একজন অভিজ্ঞ তারকার উপস্থিতি মাঠ ও মাঠের বাইরে দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। ব্রাজিলের হেক্সা মিশন অর্থাৎ ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য পূরণে নেইমারের ফিটনেস এবং ফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


