নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী ২৩ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন আজ মঙ্গলবার বিকেলে ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমির মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
আয়োজক সূত্র ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে মূল অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দেওয়ার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালের বইলর কানহর অঞ্চলের ‘ধরার খাল’ খনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। এরপর তিনি মূল অনুষ্ঠানমঞ্চে উপস্থিত হয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও নজরুল বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এছাড়াও সফরকালে তিনি ময়মনসিংহের তিনটি ইউনিটের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও অনুষ্ঠানস্থলের সার্বিক প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে আজ বিকেলে ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমির মাঠ ও নজরুল মঞ্চ পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে স্থানীয় নজরুল অনুরাগী ও সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এই আয়োজন সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
মাঠ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাইফুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভুঁইয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ের এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সমগ্র এলাকায় একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তিন দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসব ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন, সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।


