বিনোদন ডেস্ক
আইনি জটিলতা ও সেন্সর স্থগিতাদেশের টানাপোড়েন পেরিয়ে অবশেষে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে চলচ্চিত্র ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের দেওয়া সাময়িক স্থগিতাদেশের ওপর হাইকোর্ট তিন মাসের স্থগিতাদেশ জারী করায় চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের পথ সুগম হয়। নির্মাতা ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ থেকে ঢাকাসহ সারা দেশের একাধিক প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটি একযোগে প্রদর্শিত হচ্ছে।
অভিবাসন ও প্রবাস জীবনের অন্তরালের বাস্তব কঠিন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’। চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী, হাসান জাহাঙ্গীর, জেবা জান্নাত এবং প্রবীণ চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব কাজী হায়াৎসহ আরও অনেকে। এর কাহিনি ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন হাসান জাহাঙ্গীর।
এর আগে গত ১৫ মে চলচ্চিত্রটি মুক্তির ঘোষণা দেওয়া হলে অভিনয়শিল্পীদের আপত্তির মুখে এটি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়। কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেত্রী মৌসুমী অভিযোগ করেন, তিনি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নয়, বরং একটি নাটকের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছিলেন। পরবর্তীতে তার অজান্তে এটিকে চলচ্চিত্র হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে, যা তার সাথে এক ধরনের প্রতারণা। একই ধরনের অভিযোগ তোলেন আরেক অভিনেত্রী জেবা জান্নাতও। এই দুই অভিনেত্রীর লিখিত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর ও প্রদর্শনী সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সার্টিফিকেশন বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর। তিনি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট চলচ্চিত্রটির ওপর দেওয়া সার্টিফিকেশন বোর্ডের সাময়িক স্থগিতাদেশটি তিন মাসের জন্য স্থগিত করার আদেশ দেন। এই আইনি আদেশের ফলে চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনে আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি।
উচ্চ আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, “মহামান্য হাইকোর্টের আদেশক্রমে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমাটির পূর্বের সাময়িক প্রদর্শনী স্থগিতাদেশ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারকের অনুমতিক্রমে আজ থেকে সারাদেশে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে।” একই সাথে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে যেসব প্রেক্ষাগৃহের মালিকেরা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং বড় পর্দায় মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন, তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
বিতর্ক এবং আইনি জটিলতা থাকলেও আদালতের রায়ের পর প্রথম দিন থেকেই দেশের বেশ কিছু নামী ও ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটি দেখানো শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকার মধ্যে বনানীর সৈনিক ক্লাব, পিলখানার বিজিবি সিনেমা হল, সদরঘাটের আজাদ এবং পুরান ঢাকার গীত সিনেমা হলে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে।
ঢাকার বাইরে কাচপুরের চাঁদ মহল, টঙ্গীর সাবা সোহানা, আড়াইহাজারের চলন্তিকা, কুমিল্লার কে ই সিনেপ্লেক্স, কিশোরগঞ্জের রাজ, সিলেটের নন্দিতা, ফরিদপুরের বনলতা, নাগরপুরের রাজিয়া, মধুপুরের মাধবী, শরীয়তপুরের আলোছায়া, মধুখালীর মধুছন্দা এবং টেকেরহাটের সোনালী সিনেমা হলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ প্রদর্শিত হচ্ছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইনি জটিলতা নিরসনের পর এই মুক্তি দেশের চলচ্চিত্র বাজারে নতুন আলোচনা ও দর্শক সমাগমের সৃষ্টি করবে।


