রাজনৈতিক ডেস্ক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) তাদের সাংগঠনিক পরিধি বিস্তারের অংশ হিসেবে ‘নারী ও ছাত্রী বিভাগ’ এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এবং সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে। দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতির মাধ্যমে নারীদের এই বিভাগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই নারীদের জন্য পৃথক এই বিভাগের সূচনা করা হয়েছে। সদস্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি সহজ করতে একটি অনলাইন ফরমও উন্মুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আগ্রহীরা সরাসরি সংগঠনের নারী শাখার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।
মাওলানা মামুনুল হক তার বিবৃতিতে সংগঠনের মূল আদর্শ ও লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ইসলামের তিনটি মূল স্তম্ভ—‘তা’লীমে দ্বীন’ (ধর্মীয় শিক্ষা), ‘তাবলীগে দ্বীন’ (ধর্ম প্রচার) ও ‘তাগলীবে দ্বীন’ (ইসলামের বিজয়)—এর সমন্বয়ে একটি ইসলামী সমাজ গঠন করাই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মূল প্রত্যয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চার ধাপের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে দলটি তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যক্তিগত জীবনে আল্লাহর বিধান বা হুকুম বাস্তবায়ন করা, সমষ্টিগত ও সামাজিক জীবনে ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা এবং চূড়ান্তভাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে খেলাফত শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সমাজে নারীদের দ্বীনি সচেতনতা বৃদ্ধি, তাদের অধিকার সুসংহত করা এবং সাংগঠনিকভাবে নারীদের আরও দায়িত্বশীল ও সংগঠিত করার উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ নারী ও ছাত্রী বিভাগের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে সাধারণত নারীদের মূলধারার রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত করার প্রবণতা কম দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন তাদের প্রচার ও সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে নারী উইং বা শাখা গঠনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। খেলাফত মজলিসের এই উদ্যোগকে সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহের এই আধুনিক কৌশল তৃণমূল পর্যায়ে দলটির নারী কর্মীদের সংগঠিত করতে কতটা ভূমিকা রাখে, তা আগামী দিনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে স্পষ্ট হবে।


