টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন ও চলমান প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন ও চলমান প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে অলাভজনক, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অক্ষম, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাদ দেওয়া বা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে বর্তমান সরকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) আওতাধীন প্রকল্পগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে মূল্যায়নের এই প্রক্রিয়া শুরু করে।

সরকারের নীতিনির্ধারক ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরএডিপির আওতায় বর্তমানে ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার১০৮টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ৩৫টি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প, ১২১টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত ৬৬টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত। আগামী ৩০ জুন, ২০২৬ সালের মধ্যে এর মধ্য থেকে ২৮৬টি প্রকল্প সমাপ্ত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে আরও ১৭০টি প্রকল্প চলমান আছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত প্রায় ১৩শ’ প্রকল্পের অনেকগুলোই প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার বিবেচনা না করে গ্রহণ করা হয়েছিল। কিছু প্রকল্পে অদক্ষতা, অপচয় এবং দুর্নীতির সংশ্লেষ ছিল। জনগণের অর্থ ও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে প্রতিটি প্রকল্প পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেসব প্রকল্প ইতিমধ্যে বাস্তবায়নের একটি নির্দিষ্ট পর্যায় অতিক্রম করেছে, সেগুলো সম্পন্ন করলে দেশ আদৌ সুফল পাবে কিনা তা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। অকার্যকর প্রমাণিত হলে চলমান প্রকল্পও বন্ধ করা হতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের তথ্যমতে, যেসব প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ বা তার বেশি হয়ে গেছে, সেগুলো বাতিল করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে যেসব প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ। ইতিমধ্যে কমিশনের সংশ্লিষ্ট খাতগুলো থেকে চলমান প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন গবেষকদের মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা জরুরি। দীর্ঘ মেয়াদে চলমান প্রকল্পগুলো হুট করে বন্ধ করে দিলে আর্থিক ক্ষতি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি থাকে। তাই সম্পূর্ণ বন্ধ না করে কার্যপরিধি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ মূলত প্রকল্প নির্বাচন নয়, বরং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দুর্নীতি ও অপচয়। এই সংকট উত্তরণে কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্প গ্রহণের আগেই শক্তিশালী সামাজিক সুফল বিশ্লেষণ ও পেশাদার সম্ভাব্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ