আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার লক্ষ্যে ইরান একটি ‘নতুন ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা’ তৈরি করেছে মর্মে ওয়াশিংটনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে ইসরাইল। ২০২০ সালে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই তেহরান ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে আসছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় যখন আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সামনে এলো।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ইসরাইলের দেওয়া সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যটি সম্পূর্ণ নতুন এবং এতে একটি নির্দিষ্ট উপায়ে সুনির্দিষ্টভাবে হত্যাচক্রান্তের উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও ট্রাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প নিজেই এই হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অর্থাৎ আমাকে হত্যা করতে চায়। আমি তাদের তালিকায় আছি। আজ সকালে দেখলাম, তাদের প্রায় সব তালিকাতেই আমার নাম রয়েছে।” হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও এই বক্তব্যকে ইঙ্গিত করে হুমকির সত্যতা পরোক্ষভাবে স্বীকার করা হয়েছে।
এই নিরাপত্তা হুমকির রেশ ধরে ট্রাম্পের বিদেশ সফরকালীন যাতায়াতে নজিরবিহীন সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে ট্রাম্পকে তার পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমান ব্যবহার করতে দেখা যায়। মূলত কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া ট্রাম্পের নতুন ও অত্যাধুনিক বিমানটি আগে থেকেই যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি ব্রিটেনে গিয়ে সেই নতুন বিমানে আরোহণ করেন।
ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের এই আকস্মিক বিমান পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়। কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের বিশেষ অনুরোধেই নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের সম্ভাব্য বিমান হামলা বা আকাশপথের ঝুঁকি এড়াতে এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
যদিও এক সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে গেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অতীতেও ইরানের পক্ষ থেকে তাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই গোয়েন্দা তথ্যের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা জোরদারের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে।


