জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আযহার বাকি আর মাত্র একদিন। ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষ। শেষ সময়ে এসে মহাসড়কগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। এর ফলে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত যানবাহনের এই চাপের কারণে মহাসড়কে ধীরগতি এবং কোথাও কোথাও যানজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ ও টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। মহাসড়কে যানজট নিরসন, যাত্রী ভোগান্তি রোধ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ডসংখ্যক যানবাহন পারাপার হয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। বিপুল সংখ্যক এই যানবাহন থেকে মোট ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে।
সেতু উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের টোল প্লাজার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় পারাপার হওয়া যানবাহনের মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী গাড়ির সংখ্যাই বেশি ছিল। উত্তরবঙ্গের দিকে গেছে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা। অন্যদিকে, একই সময়ে ঢাকাগামী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৬০টি, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঈদযাত্রায় যানবাহনের বাড়তি চাপ সামাল দিতে সেতুর দুই পাশে টোল বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে উভয় প্রান্তে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে সার্বক্ষণিকভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে মোটরবাইক চালকদের সুবিধার্থে এবং মূল লেনে জটলা এড়াতে দুই পাশে দুটি করে মোট চারটি বুথ শুধু মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক টোল আদায় প্রক্রিয়া সচল রাখতে সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।
এদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং যমুনা সেতু সংলগ্ন সড়কগুলোতে যানজটমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ পয়েন্টে এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে যমুনা সেতুর ওপর বিশেষ নজরদারি ও সিসিটিভি মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, ঈদযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন, কোরবানির পশু বহনকারী ট্রাক এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের কারণে যাতে মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, সেদিকে কঠোর নজর দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে দূরপাল্লার গণপরিবহনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধেও ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সমন্বিত এই পদক্ষেপের ফলে শেষ মুহূর্তের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও ভোগান্তিমুক্ত হবে।


