জাতীয় ডেস্ক
দেশের রাজধানী ঢাকা ও ময়মনসিংহসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় আজ একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র এই ভূকম্পনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪। হঠাৎ মৃদু ঝাঁকুনিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা খনিকের জন্য উৎকণ্ঠা তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টা ৪১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে (বাংলাদেশ সময়) এই ভূকম্পনটি আঘাত হানে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর দিকে, ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার আমতলী এলাকায়। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ২৪ দশমিক ৩৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০ দশমিক ৩৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৩ থেকে ৩ দশমিক ৯ মাত্রার কম্পনকে ‘মাইনর’ বা মৃদু ভূমিকম্প হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। সেই হিসেবে আজকের এই কম্পনটি একটি মৃদু ভূকম্পন ছিল।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভালুকা ও এর আশপাশের এলাকা ছাড়াও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে এই কম্পন মৃদুভাবে অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে বহুতল ভবনে অবস্থানরত অনেকেই এই কম্পন টের পান। তবে কম্পনের স্থায়িত্বকাল অত্যন্ত কম থাকায় এবং মাত্রা মৃদু হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে এর কোনো বড় প্রভাব পড়েনি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা অনুভূত হওয়া অন্যান্য এলাকা থেকে কোনো ধরনের হতাহত, আহত কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে।
ভূ-তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলো দীর্ঘকাল ধরেই ভূমিকম্প প্রবণ ভৌগোলিক অবস্থানের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলো বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়শই ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। ময়মনসিংহের ভালুকা ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোও এই ভূ-প্রাকৃতিক কাঠামোর বাইরে নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের ছোট মাত্রার ভূমিকম্পগুলো বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না করলেও, এগুলো ভূ-অভ্যন্তরের টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত নড়াচড়া ও শক্তি সঞ্চয়ের ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা প্রতিনিয়ত দেশবাসীকে এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। মৃদু কম্পনে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা এবং বহুতল ভবনে অবস্থানকালীন সময়ে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার মতো প্রাথমিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো অনুসরণের ওপর তারা জোর দিয়েছেন। আজকের এই মৃদু ভূকম্পনের পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নাগরিকদের ভবন নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে মেনে চলার এবং নিয়মিত দুর্যোগকালীন মহড়া পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো বড় ধরনের ভূ-তাত্ত্বিক বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।


