অপরাধ ডেস্ক
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক আটটার দিকে উপজেলার শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ পাড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগামী একটি পিকআপ ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা গ্রামের বাসিন্দা দুর্গাপদ মল্লিক (৭০) ও তাঁর ছেলে বিধান মল্লিক (৪৭)। তাঁরা চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। নিহত বিধান মল্লিক কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে বিধান মল্লিক তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে আনোয়ারা উপজেলার গ্রামের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলটি শাহ আমানত সেতু পার হয়ে দক্ষিণ পাড়ে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যান এটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুর্গাপদ মল্লিক।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় চালক বিধান মল্লিককে উদ্ধার করেন। তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ঘটনাস্থলেই বাবার মৃত্যু হয়েছিল এবং হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছেলের মৃত্যু হয়। নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পিকআপ ভ্যানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে কিনা এবং চালক পলাতক রয়েছে কিনা—সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়ক এবং সংযোগ সড়কগুলোতে ভারী ও দ্রুতগতির যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। কর্ণফুলীর এই ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষা ক্ষেত্রে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। একজন অভিজ্ঞ বিজ্ঞান শিক্ষকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর বিদ্যালয় ও শিক্ষক সমাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার পর শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং গতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই বিষয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।


