অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা ডেস্ক
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে ব্যবসায়িক ও প্রবাসী অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর ঘরে ঢুকে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক সৌদিপ্রবাসী গুরুতর গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে তার ১২ বছর বয়সী সন্তান দিহান ইসলামকে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অপর সৌদিপ্রবাসী মো. রাকিবকে (৩৮) একটি পিস্তল ও গুলিসহ আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের রাজারচর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীকালে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত রাকিবকে আটক করা হয়। আটককৃত রাকিব একই এলাকার খালেক বেপারীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম এবং অভিযুক্ত রাকিব উভয়েই সৌদি আরব প্রবাসী। সেখানে অবস্থানকালেই তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই দেশে ফেরার পর পরিকল্পিতভাবে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
আহত প্রবাসীর স্ত্রী সঙ্গিতা বেগম ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, সোমবার রাতে পরিবারের সদস্যরা নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ করে দুই ব্যক্তি দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় ঘরের বাইরে আরও অন্তত দুই থেকে তিন জন পাহারায় নিয়োজিত ছিল। ঘরে ঢুকেই হামলাকারীরা রফিকুল ইসলামকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি বর্ষণ করতে থাকে। স্বামীকে বাঁচাতে এবং চিৎকার করতে গেলে হামলাকারীরা ধারালো চাপাতি দিয়ে তাদের ১২ বছরের সন্তান দিহানকে পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে জখম করে। হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্য রফিকুলকে হত্যা করা ছিল বলে দাবি করেন তার স্ত্রী।
গুলির শব্দ ও পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুলিবিদ্ধ রফিকুল ইসলাম ও তার সন্তানকে উদ্ধার করে রাত ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক এস এম ফেরদৌস জানান, মধ্যরাতে রফিকুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তিকে হাত, পা ও বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের একাধিক স্থানে গুলির আঘাত রয়েছে এবং রক্তক্ষরণের কারণে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, তার শিশু সন্তান দিহানের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত থাকায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) কামরান হাসান জানান, সৌদি আরবে অবস্থানকালীন দুই প্রবাসীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও আর্থিক বিরোধের সূত্র ধরে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ জড়িতদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে। বেলা ১১টার দিকে রাজারচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারী রাকিবকে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে হামলায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের এই অভ্যন্তরীণ বিরোধের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কোনো অপরাধী চক্র এই হামলায় সহায়তা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর পলাতক আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে। এই ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


