নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চাঁদাবাজির বিরোধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চাঁদাবাজির বিরোধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

অপরাধ ডেস্ক

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে চাঁদা না পেয়ে জুবায়ের হোসেন রাকিব (২৩) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি সাইফুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল খানপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল সোমবার সকালে নিহত যুবকের মা যোবেদা খাতুন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা রাকিব ও তার ছোট ভাইয়ের ওপর দেশীয় অস্ত্র ও রড নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা রাকিবকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। এই হামলায় রাকিবের ছোট ভাইও আহত হন। নিহত রাকিব খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, খানপুর গ্রামে রাকিবের চাচার বাড়িতে একটি পাকা ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। স্থানীয় একটি চক্র ওই নির্মাণকাজ বাবদ মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। এই চাঁদাবাজির বিরোধিতা করায় আসামিদের সঙ্গে পরিবারের বিরোধ তৈরি হয়। সেই শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। গত রবিবার বেলা ১১টার দিকে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে বসতঘর ও রান্নাঘরসহ অন্তত আটটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বিশেষ তৎপরতা চালাতে হয়।

এদিকে, রাকিব হত্যার বিচার ও জড়িত সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল সোমবার এলাকাবাসী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। একই দিন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে কড়া পুলিশি পাহাড়ায় নিহত রাকিবের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মামলার অন্য আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি সাইফুলকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে সোমবার বিকেলেই নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। মামলার বাকি আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ