জাতীয় ডেস্ক
সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দুই প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় অনুযায়ী গত সোমবার এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী গ্রামের তছলিম উদ্দিন ছৈয়ালের ছেলে মো. হারুন (৩২) এবং তাঁর নিকটাত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু একই এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল (৩১)। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সৌদি আরবে কর্মসংস্থান ও জীবিকার তাগিদে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে নিহত হারুনের পারিবারিকভাবে গণমাধ্যমকে এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. হারুন ও মো. রাসেল জীবিকার সন্ধানে একসঙ্গে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে তাঁরা একই কর্মস্থলে এবং একই সঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার দিন কর্মস্থল থেকে আবাসে ফেরার পথে বা কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সময়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আকস্মিক এই মৃত্যুর খবর উত্তর হামছাদী গ্রামে পৌঁছালে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
এই বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, প্রবাসে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এটি দেশের জন্য একটি বড় ক্ষতি। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন এই সংকটের মুহূর্তে নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুত এবং সুরক্ষিতভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সমন্বয় সাধন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনা এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের দাপ্তরিক ও আইনি সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় সরকারি কল্যাণ তহবিল থেকে যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা যেন পরিবারগুলো দ্রুত পায়, সে বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে, বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের জন্য গমন করেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্যান্য কারণে মারা যাওয়া কর্মীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি বাধ্যবাধকতা ও স্থায়ী ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে নিহত কর্মীর পরিবারকে তাৎক্ষণিক দাফন খরচ এবং পরবর্তীতে বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান ও জীবন বীমার সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে। লক্ষ্মীপুরের এই দুই যুবকের ক্ষেত্রেও এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনার হার হ্রাসে দেশটির সরকার নানাবিধ কঠোর আইন প্রণয়ন করলেও দূরপাল্লার মহাসড়কগুলোতে অসতর্কতা এবং মরুভূমির আবহাওয়ার কারণে প্রায়শই প্রবাসী কর্মীরা দুর্ঘটনার শিকার হন। মরদেহ বাংলাদেশে প্রেরণের জন্য স্থানীয় পুলিশি প্রতিবেদন, হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেট এবং দূতাবাসের ছাড়পত্র বা অনাপত্তি পত্রের (এনওসি) প্রয়োজন হয়। এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে সাধারণত কিছুদিন সময় লেগে থাকে। তবে বাংলাদেশের কনস্যুলার উইং বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


