জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

জাতীয় ডেস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই অভিনন্দন জানান। এই বিজয়কে বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক অর্জন এবং ক্রমবর্ধমান মর্যাদার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া একটি অনন্য মাইলফলক। এই অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের সুদৃঢ় বিশ্বাসযোগ্যতার পরিচয় বহন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ড. খলিলুর রহমান অত্যন্ত নিষ্ঠা ও গর্বের সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। একই সাথে বহুপাক্ষিক সংকট নিরসন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সংলাপ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী তার নতুন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মোট ৯৯টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিশ্বসংস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশের এই বিজয় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের কূটনৈতিক দক্ষতার এক বড় প্রমাণ।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি জাতিসংঘের অন্যতম শীর্ষ ও নীতিনির্ধারণী অবস্থান। প্রতি বছর এই পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমিক ভিত্তিতে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের অধিবেশনসমূহ পরিচালনা করবেন এবং বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে বিশ্বনেতাদের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধির জাতিসংঘের এই শীর্ষ পদে আসীন হওয়া দেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি বিশাল সাফল্য। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার আদায়, জলবায়ু ঝুঁকির মোকাবিলা এবং অভিবাসন সংকটের মতো বিষয়ে বাংলাদেশ এখন আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবে। এই পদ প্রাপ্তি বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর করবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ