গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর হাত-পা বাঁধা ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর হাত-পা বাঁধা ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

সারাদেশ ডেস্ক

গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর নাঈম (২৭) নামে এক কাঁচামাল ও মৎস্য ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের একটি মহিলা মাদ্রাসার পেছন থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত শুরু করেছে।

নিহত নাঈম শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বড়নল গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বরমী বাজারে কাঁচামালের ব্যবসার পাশাপাশি বাড়ির পাশে একটি পুকুর লিজ নিয়ে মৎস্য চাষ প্রকল্প পরিচালনা করছিলেন।

নিহতের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে নাঈম তাঁর মৎস্য প্রকল্প দেখভালের জন্য টর্চলাইট নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি বাড়ি ফিরে আসতেন। তবে ওই রাতে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও তিনি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমবার কলটি কেটে দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। বুধবার দিনভর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।

পরবর্তী সময়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বরকুল গ্রামের মহিলা মাদ্রাসার পেছনের শেখেরঘাট এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিহতের হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি শনাক্ত করে এবং তা উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন বা মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য তা গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের হাত-পা বাঁধা থাকায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। পুলিশ এই ঘটনার অন্তর্নিহিত রহস্য উদ্ঘাটনে সব ধরনের কারিগরি ও মাঠপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পেছনে কোনো পূর্বশত্রুতা, ব্যবসায়িক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের শ্রীপুরে সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এ ধরনের ঘটনা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ