ইরানের পরমাণু কেন্দ্র পরিদর্শনে আইএইএ-র বাধা: অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকিতে বিশ্ব

ইরানের পরমাণু কেন্দ্র পরিদর্শনে আইএইএ-র বাধা: অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকিতে বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যাচাই ও পরিদর্শনের সুযোগ না পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। দীর্ঘ সময় ধরে এই তদারকি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। একটি গোপন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিশ্ব নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানকে অবিলম্বে পরিদর্শকদের কাজের অনুমতি দেওয়ার এবং ইতিবাচকভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মূলত বিগত সামরিক সংঘাতের পর থেকে তেহরান আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের তাদের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার দেওয়া বন্ধ করে রেখেছে, যা বর্তমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ১২ দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সময় ইরানের বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনা সরাসরি হামলার শিকার হয়। আইএইএ স্বীকার করেছে যে, এই সামরিক হামলার ফলে সেখানে একটি নজিরবিহীন ও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বিধায় অবিলম্বে কেন্দ্রগুলো পরীক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে।

সামরিক হামলার পূর্বে আইএইএ-র দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুদ ছিল। সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন হয়। কারিগরি বিশ্লেষকদের মতে, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, যা ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তির নির্ধারিত সীমার চেয়ে বহুগুণ বেশি। কিন্তু গত এক বছর ধরে বিধ্বস্ত কেন্দ্রগুলোতে পরিদর্শকরা প্রবেশ করতে না পারায় এই বিশাল ইউরেনিয়াম মজুদের বর্তমান অবস্থা, অবস্থান এবং সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চরম অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, ইরান বেসামরিক কর্মসূচির আড়ালে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইরানকে অবশ্যই পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ ত্যাগ করতে হবে এবং তাদের বর্তমান ইউরেনিয়াম মজুদ সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে। অন্যথায় এই অঞ্চলে টেকসই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

বিপরীতপক্ষে, ইরান শুরু থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির এই অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের আনুষ্ঠানিক দাবি, তাদের এই পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক, চিকিৎসা এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার না দিয়ে তথ্য গোপন করার এই নীতি বিশ্বমঞ্চে ইরানের দাবির গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, যা আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সামরিক বা অর্থনৈতিক সংঘাতের পথ উন্মুক্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ