আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর দিয়ে ওড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং হেলিকপ্টারে থাকা দুই পাইলটকেই জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী নৌপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে সামরিক হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার ভোরের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ আরোহণের পূর্বে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, “পাইলটরা সম্পূর্ণ ভালো আছেন এবং এই দুর্ঘটনায় কেউ আহত হননি।” একই সাথে ঘটনার বিস্তারিত ও কারণ উদঘাটনে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এই বিষয়ে আগামী বুধবার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছি। তবে সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, আমাদের পাইলটরা সুরক্ষিত আছেন।”
হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরণের সামরিক দুর্ঘটনা বা অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
প্রাথমিক সামরিক তথ্যানুযায়ী, হেলিকপ্টারটি ওই অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি বা মহড়ার অংশ হিসেবে উড্ডয়ন করছিল। দুর্ঘটনার পর পরই মার্কিন নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত তৎপরতা শুরু করে এবং পাইলটদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী বুধবার যে প্রতিবেদনটি প্রকাশের কথা রয়েছে, সেখানে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি বৈরী আবহাওয়া—কোন কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা স্পষ্ট করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


